জরায়ু বড় হওয়ার কারন কি - জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ - জরায়ু ব্যথার কারণ

নারী দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেনসিটিভ একটি অঙ্গ হলো জরায়ু। এই জরায়ুকে প্রজনন অঙ্গও বলা হয়ে থাকে। তবে এই সেনসিটিভ অঙ্গ অর্থাৎ জরায়ুর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিদিন বিশ্বের অনেক নারীরা। জরায়ুর এই সমস্যাগুলো থেকে পরবর্তীতে দেখা দিতে পারে গর্ভধারণের অসুবিধা সহ শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজকে আমরা জানবো জরায়ু বড় হওয়ার কারণ কি , জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ , জরায়ু ফোলার কারণ সহ জরায় সংক্রান্ত আরো বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে।


জরায়ুর বিভিন্ন সমস্যাকে অবহেলা না করে শুরু থেকেই সচেতন হওয়া উচিত কারণ জরায়ু যেকোনো সমস্যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে প্রাণনাশ করার মতন রোগ ক্যান্সার। তাই জরায়ুর বিভিন্ন সমস্যার কারণ এবং লক্ষণগুলো আমাদের জানতে হবে। আর আপনাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে আলোচনা করব গর্ভাবস্থায় জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ , জরায়ু ফোলার কারণ , জরায়ু ব্যথার কারণ , জরায়ু বড় হওয়ার কারণ কি ইত্যাদি বিষয়ে সম্পর্কে। এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নিন।

সূচিপত্র ঃজরায়ু বড় হওয়ার কারন কি - জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ - জরায়ু ব্যথার কারণ

জরায়ু কোথায় থাকে

জরায়ুর অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা অনেকেরই নেই , তাই বিভিন্ন সময় জানতে চাওয়া হয় জরায়ু কোথায় থাকে এ প্রশ্নটি। আজকে আপনাদের জরায়ু কোথায় থাকে এই উত্তরটি জানাবো। জরায়ু হলো মেয়েদের শরীরে বিশেষ একটি অঙ্গ। এই অঙ্গটিকে প্রযোজন অঙ্গও বলা হয়। মেয়েদের শরীরে মুত্রাশয় এবং মলদ্বারের মাঝামাঝি স্থানে যে অঙ্গটি রয়েছে , সেটি হলো জরায়ু।জরায়ু কিছুটা নাশপাতি সেপ বা আকৃতির মতন। জরায়ু মূলত প্রায় ৪ সে.মি লম্বা ও ৩ সে.মি পুরু এবং একটি প্রাপ্ত বয়ষ্ক জরায়ুর ওজন প্রায় ৬০ গ্রাম।

জরায়ু বড় হওয়ার কারন কি

জরায়ু বড় হওয়ার সমস্যা অনেকেরই থাকতে পারে এবং এর পেছনে থাকতে পারে বিভিন্ন কারণ। নারীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো জরায়ু তাই এটি বড় হয়ে গেলে এই বিষয়ে অনেকেরই চিন্তার শেষ থাকে না। অনেকে জরায়ু বড় হওয়ার কারন কি এই প্রশ্নের উত্তরটি জানতে চাই। আজকে আপনাদের অল্প কথায় জানানোর চেষ্টা করব জরায়ু বড় হওয়ার কারন কি এই প্রশ্নের উত্তরটি। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক জরায়ু বড় হওয়ার কারন কি।

ফাইব্রয়েডঃ অধিকাংশ মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এই সময়টিতে জরায়ুতে টিউমার হয়ে থাকে বা হওয়ার আশংকা থাকে। আর এই টিউমার গুলোকে বলা হয়ে থাকে ফাইব্রয়েড । এই ফাইব্রয়েড বা টিউমার ছোট , বড় , মাঝারি বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। এই ফাইব্রয়েড বা টিউমার গুলো হতে পারে জরায়ু বড় হওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ। এই ফাইব্রয়েড তিন ধরনের হয়ে থাকে যথা জরায়ু প্রাচীর এর বাইরে , ভেতরে এবং জরায়ুর যে স্থান থেকে ঋতুস্রাব হয় এবং ভ্রুণ থাকে।

পলিসিস ওভারি সিনড্রোমঃ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম মেয়েদের একটি হরমোনাল অসুখ। এই রোগের ফলে মেয়েদের শরীরের এন্ড্রোজেন হরমোন অনেক বেড়ে যায় আর এই কারণে ডিম্বাশয় এর আশেপাশে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়। এই সিস্ট গুলোর কারণে মাসিক অনিয়মিত হয় এবং জরায়ু বড় হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ কতটুকু সাদা স্রাব হওয়া স্বাভাবিক

জরায়ু ক্যান্সারঃ টিউমার বা হরমোনাল কারণ ছাড়াও আরো একটি যে কারণে জরায়ু বড় হয় সেটি হল ক্যান্সার। জরায়ুতে ক্যান্সারের পোস্ট থাকলে সেগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং এখান থেকে বিভিন্ন অসুবিধার সৃষ্টি হয়।জরায়ু ক্যান্সার থাকলে , জরায়ু বড় হয়।

এই ছাড়াও স্বাভাবিক যে কারণটির জন্য জরায়ু বড় হয় সেটি হল প্রেগন্যান্সি। মেয়েদের প্রেগন্যান্ট অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে জরায়ুর বৃদ্ধি পায়। এবং পেটের ভেতরে বাচ্চার বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি বড় হতে থাকে এবং বাচ্চা প্রসবের পর প্রাকৃতিক নিয়মেই আবার জরায়ু ছোট হয়ে যায়। স্বাভাবিক কারণ ছাড়া যদি অন্য কোন কারণে জরায়ু বড় হয় তাহলে অবহেলা না করে ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জরায়ু ব্যথার কারণ

এবার আমরা জানবো জরায়ু ব্যথার কারণ সম্পর্কে। জরায়ু ব্যথার কারণ এর পিছনে বিভিন্ন রিজন থাকতে পারে, কারন যদি হোক না কেন জরায়ু ব্যথা হলে অবশ্যই আমাদের এর উপরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ জরায়ু হল একটি অত্যন্ত সেনসিটিভ অঙ্গ। তাই এখানকার ছোট যেকোনো ক্ষতও ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। চলুন এবার আমরা জেনে নিই জরায়ু ব্যথার কারণ গুলো। জরায়ু ব্যথা হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো,

জরায়ুতে কোন রোগ জীবাণুর সংক্রমণ হলে জরায়ু ব্যথা হতে হয়। কোন কারণে যদি জরায়ুতে যোগ দিবানো সংক্রমণ ঘটে তাহলে এখান থেকে প্রদাহ ও ঘা সৃষ্টি হতে পারে , যেটাকে মেডিকেল সাইন্সে সারভিসাইটিস বলা হয়। জরায়ু বা এর আশেপাশে টিউমার থাকলে সেটি জরায়ু দেখার কারণ হতে পারে।এছাড়াও জড়ায় ব্যথা হওয়ার পিছনে থাকতে পারে যৌনবাহিত কোন অসুখ বা রোগ জীবাণুর কারণ এবং পর নিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণেও হতে পারে জরায়ু ব্যথা। এবরোশন বা অন্য কোন কারণে জরায়ুতে অস্ত্র প্রচারের ফলেও হতে পারে জরায়ু ব্যথা হওয়ার কারণ।

জরায়ু ব্যথা হওয়ার পেছনে আরো যে সকল কারণ থাকে সেগুলো হলো , জরায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন টেস্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার , নরমাল ডেলিভারি সময় যদি জরায়ুর মুখ ছিঁড়ে গেলে। তবে জরায়ু ব্যথা কারণ যায় হোক না কেন , যা জরায়ু ব্যথা হলে সাধারণ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন যেমন পর্যাপ্ত বিশ্রাম , পর্যাপ্ত পানি পান এবং জরায়ু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হন এরপরেও যদি জরায়ু ব্যাথার কোন পরিবর্তন না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

জরায়ু ফোলার কারণ

জরায়ু  সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আরেকটি অন্যতম সমস্যা হল জরায়ু ফুলে যাওয়া। জরায়ু ফোলার বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে, তবে জরায়ু ফোলার কারণ গুলো প্রত্যেক মেয়েরই জেনে রাখা উচিত এবং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। আপনি যদি জলা জরায়ু ফোলার কারন গুলো না জেনে থাকেন তাহলে এর কারণগুলো অবশ্যই এখনই জেনে নিন।

আরো পড়ুনঃ অনিমিত মাসিকের কারণও কুফল

  • জরায়ুতে কোন রোগ জীবাণুর সংক্রমনের ফলে প্রদাহ সৃষ্টি হলে জরায়ু লাল হয় ও ফুলে যায়।
  • জরায়ুতে ফাইব্রোয়েড বা টিউমার থাকলে। এই ফাইব্রয়েড জরায়ুর মাঝে এবং জরায়ু প্রাচীরের ভেতরে বাইরে থাকতে পারে।
  • অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এর কারনে অথবা অন্য যেকোনো কারণে জরায়ু আঘাতপ্রাপ্ত হলে।
  • পলিসিস ওভারি সিনড্রোম অর্থাৎ মেয়েদের এক ধরনের হরমোনাল অসুখের কারণে জরায়ু ফুলে যেতে পারে।
  • জরায়ুতে ক্যান্সার , টিউমার , ঘা ইত্যাদি সংক্রমণ কোন অসুখ থাকলে জরায়ু ফুলে যায়

জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ

জরায়ু সংক্রান্ত রোগ বা সমস্যাগুলো বর্তমানে অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে , জরায়ু সংক্রান্ত রোগ গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রোগ হলো জরায়ু ইনফেকশন যেটাকে ইংরেজিতে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বলা হয়। বর্তমানে ব্যাপক হারে জরায় ইনফেকশনের ঘটনা ঘটার প্রেক্ষিতে আজকে আমরা জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ সম্পর্কে জানব। আপনি যদি জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো না জেনে থাকেন তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এখনই জেনে নেওয়া আপনার উচিত। কারণ জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো দেখে আপনি যদি সময় মতন চিকিৎসা গ্রহণ না করেন তাহলে সে ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সমস্যা থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন অসুবিধা বা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই জেনে নিন জরায়ুর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া
  • শরীর ক্লান্ত লাগা
  • জরায়ু  ফুলে থাকা
  • জরায়ুতে ব্যথা হওয়ার
  • জরায়ু জ্বালাপোড়া করা
  • মাঝে মাঝে জ্বর হওয়া
  • যৌন মিলনের সময় ব্যথা হওয়া
  • প্রস্রাব পায়খানা সময় জরায়ু থেকে রক্ত পড়া
  • প্রসাবের আগে ও পরে জরায়ুতে ব্যথা  অনুভব হওয়া
  • মাসিক ও সহবাসের সময় এবং পরে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বের হওয়া
  • মাসিক নিয়মিত হওয়া
  • মাসিকের সময় তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া
  • হাত-পা জ্বালাপোড়া করা

গর্ভাবস্থায় জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ

গর্ভাবস্থায় জড়াইতে ইনফেকশন হওয়া কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয় , বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিক কেননা এই সময় জরায়ুর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে থাকে , তাই আমাদেরকে জেনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থায় জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণগুলো। যাতে করে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে আমরা দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারি। গর্ভাবস্থা যেহেতু অত্যন্ত সেনসিটিভ একটা পরিস্থিতি এই কারণে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সচেতনতা অবলম্বন করতে হয়। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজকে  গর্ভাবস্থায় জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণগুলো জানাবো।

আরও পড়ুন ঃ সিজারের পর ইনফেকশন এর লক্ষণ

জরায়ু ইনফেকশনের প্রধান এবং মূল কারণ হলো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ , আর গর্ভাবস্থায় যেহেতু নারীদের জরায়ুতে বিভিন্ন পরিবর্তন সাধিত হয় এই জন্য জরায়ু অত্যন্ত নাজুক ও দুর্বল অবস্থায় থাকে আর এই সময় খুব দ্রুত বা সহজে খারাপ ব্যাকটেরিয়ারা জরায়ুতে আক্রমণ এবং সংক্রমণ ঘটাতে পারে যার ফলে গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়। গর্ভাবস্থায় বেশ কিছু উপসর্গ দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার জরায়ু ইনফেকশন হয়েছে। চলুন এবার তাহলে গর্ভাবস্থায় জরায়ু ইনফেকশনের সেই লক্ষণ বা উপসর্গগুলো জেনে নেওয়া যায় ,

  • গর্ভাবস্থায় জরায়ু ইনফেকশন দেখা দিলে তলপেট অস্বাভাবিকভাবে খুলে যায় এবং পাশাপাশি প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়।
  • গর্ভাবস্থায় প্রস্রাব পায়খানা করার সময় জরায়ুতে জ্বালাপোড়া অথবা পেটে ব্যথা অনুভব হলে, স্বাভাবিকভাবে একটি জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় যদি যোনি পথে মাঝে মাঝে ব্লিডিং এবং সাথে প্রচন্ড ব্যথা থাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করুন কারণ এটি হতে পারে জরায়ু ইনফেকশনের আরেকটি লক্ষণ।
  • গর্ভাবস্থায় মাসিকের রাস্তায় স্রাব নির্গত হওয়া এটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু এই স্বাভাবিক ব্যাপারটি যখন অস্বাভাবিকভাবে ধরা পড়ে তখন এটি হতে পারে জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ। অর্থাৎ আপনি যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত স্রাব নির্গত হওয়ার সমস্যাটি বোধ করেন তাহলে অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন হন।
  • উপরের এই উপসর্গ গুলোর সাথে যদি মাঝে মাঝে কম বা বেশি জ্বর আসা-যাওয়া করে তাহলে এটি হতে পারে জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ।

মান্তব্য, সচেতনতামূলক জরায়ু বিষয়ক এই পোস্টটি আশা করছি আপনারা মনোযোগ সহকারে করেছেন এবং জেনে নিয়েছেন জরায়ু বড় হওয়ার কারণ কি , জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ  ও  জরায়ু  ব্যথার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত। বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে জরায়ুকে সুস্থ রাখতে উপরে দেয়া বিভিন্ন  সমস্যার লক্ষণ গুলো প্রকাশ পেলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। কারণ জরায়ুর সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করা আপনার যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url