ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ৬ উপায় - ফুসফুস ভালো রাখার ১৫ উপায়

ফুসফুস আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্গান তাই ফুসফুস ভালো রাখার উপায় এবং ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে সকলের জেনে রাখা উচিত। কেননা প্রতিবছর বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৮০ লাখ লোক ফুসফুসের কোন না কোন সমস্যায় আক্রান্ত। তাই আজকে আমরা আলোচনা করব,ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ৬ উপায় এবং ফুসফুস ভালো রাখার ১৫ উপায় সম্পর্কে। আপনার জানা না থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবশ্যই জেনে নিন।

ফুসফুস ফুসফুস ভালো রাখার উপায় এবং ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় গুলো আমাদের সকলেরই জেনে রাখা উচিত। কারণ ফুসফুস ভালো রাখার উপায় জানা থাকলে আমরা খুব সহজে ফুসফুসের যত্ন নিতে পারবো এবং ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় উপায় জানা থাকলে সঠিক সময়ে ফুসফুসের প্রয়জনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেবো। ফুসফুস ভালো রাখার উপায় এবং ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় জানতে হলে অবশ্যই এই পোস্টটি পড়ুন ,কারণ এখানে আপনাদেরকে জানানো হবে ,ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ৬ উপায় ও ফুসফুস ভালো রাখার ১৫ উপায় সম্পর্কে। এই বিষয় গুলো ছাড়াও এই পোস্টের ভেতরে ফুসফুস সম্পর্কিত আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করা হয়েছে।

সূচিপত্রঃ ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ৬ উপায় - ফুসফুস ভালো রাখার ১৫ উপায়

ফুসফুস কি

আমাদের বেঁচে থাকর জন্য ফুসফুসের ভূমিকা অপরিসীম, ফুস্ফুস নামটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত,কিন্তু আপনর কি জানা আছে ফুসফুস কি? যদি জানা না থাকে তাহলে এ প্রশ্নের উত্তরটি এখুনি জেনে নিন। সকল মেরুদন্ডী প্রাণীদের শরীরে একটি বিশেষ অঙ্গ রয়েছে ,যে অঙ্গের মাধ্যমে মেরুদন্ডি প্রানীরা শ্বাস - প্রশ্বসের কাজ সম্পন্ন করে, সেই অঙ্গটিকে ফুসফুস বলে। অর্থাৎ ,শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গের নাম হচ্ছে ফুসফুস। ফুসফুসের ভেতরে অনেকগুলো বায়ুথলি , শ্বাসনালী এবং রক্তনালী থাকে। বিভিন্ন অঙ্গের মতন সয়সের সাথে সাথে ফুসফুসও বৃদ্ধি পায়, তবে ফুসফুস বড় হতে থাকলে এর শক্তি কমতে থাকে। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ফুসফুসের ওজন থাকে প্রায় ১০০০ গ্রাম এবং একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ফুসফুসের আয়তন প্রায় ৬০০০ মি.লি। ফুসফুস স্পঞ্জের মতন নরম ও সামান্য লালচে খইরি রঙের হয়

ফুসফুস এর কাজ কি

এতক্ষণ আমরা ফুসফুস কি কি তা জেনেছি এবার আমরা জানবো ফুসফুস এর কাজ কি বা দেহে ফুসফুসের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ফুসফুসের কাজ কি। অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করা হলো ফুসফুসের প্রধান কাজ , অর্থাৎ শরীরের রক্ত প্রবাহ অক্সিজেন নেয়া এবং রক্ত প্রবাহের মধ্যে থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেওয়া হলো ফুসফুসের অন্যতম এবং প্রধান কাজ। আর ফুসফুস এই গ্যাস আদান-প্রদানের কাজটি করে থাকে অ্যালভিওলাইয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। শ্বাসকার্য পরিচালনার প্রধান কাজটি ছাড়াও ফুসফুস আমাদের দেহের জন্য আরও বেশ কিছু কাজ করে থাকে , এই কাজগুলো হলো- শরীর থেকে শ্বসন  বর্জ্য নিষ্কাশন করা, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ,পানিসাম্য রক্ষা করা , শব্দ সৃষ্টিতে সাহায্য করা , ইমিউনোগ্লোবিন নিঃসরণ করা , ফুসফুসীয় টিস্যুগুলো যেমন সেরোটোনিন ও দুষ্টামি সংরক্ষণ ও বিমুক্ত কর।

ফুসফুস কোথায় থাকে

ফুসফুস কি এবং ফুসফুস এর কাজ কি এই বিষয়গুলো জেনে নেয়ার পরে এবার আমরা জানবো ফুসফুস কোথায় থাকে।তাহলে চলুন জেনে যাক দেহে ফুসফুস কোথায় থাকে। মানুষের শরীরে ফুসফুসের অবস্থান হার্টের দুই পাশেএবং হার্টের দুই পাশে অবস্থিত ফুসফুস দুইটি প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। বাহ্যিকভাবে দেখতে ডান ও বাম ফুসফুস একই রকম হলেও গঠনের দিক থেকে এদের ক্য কিছু তারতম্য রয়েছে। ডান ফুসফুসে প্রায় দশটি এবং বাম ফুসফুসে প্রায় আটটি সেগমেন্ট রয়েছে। ওজনের দিক থেকেও দুইটি ফুসফুস কমবেশি রয়েছে। ডান ফুসফুস বড় এবং ওজন প্রায় ৬২৫ গ্রাম এবং বাম ফুসফুস তুলনায় ছোট ও এর ওজন প্রায় ৫৬৫ গ্রাম।

ফুসফুস ভালো রাখার উপায়

জন্য আমাদের বেঁচে থাকার শ্বাস-প্রশ্বাস অত্যাবশ্য আর এই অত্যাবশ্যকীয় কাজটি সম্পন্ন হয়ে থাকে ফুসফুসের মাধ্যমে সুতরাং বুঝতেই পারছেন ফুসফুস ভালো রাখা আমাদের জন্য কতটা জরুরি। আর ফুসফুসের যত্ন বা ফুসফুস রাখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে ফুসফুস ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে। আমাদের মধ্যে অনেকেই খুব খুব ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে জানেন না। তাই আজকে আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে এখন আলোচনা করব ফুসফুস ভালো রাখার উপায় গুলো নিয়ে। যারা ফুসফুল ভালো রাখার উপায় জানেন না তারা অবশ্যই, শ্বসন পরিচালনা করার অঙ্গ ফুসফুস ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।এখন আমরা আলোচনা করব ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ১৫ উপায় নিয়ে।

গরম পানির ভাঁপ নেওয়াঃ নিয়মিত গরম পানির ভাঁপ নিলে ফুসফুস ভালো থাকে , কারণ গরম পানির ভাঁপ নিলে ফুসফুসের ভেতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা দূর হয় যার ফলে নিঃশ্বাস বাধা প্রাপ্ত হয়না। এবং এটি গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন জার্নাল অফ পালমোনারি এন্ড রেসপিরেটরি এর গবেষকরা। প্রায় ১৬ জন ফুসফুসের সমস্যায় ঠিক মতন নিঃশ্বাস নিতে না পারা ব্যক্তিকে নিয়ে তারা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন এবং গরম পানির ভাপ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কার্যকরী সুফল পান।

ব্রেথ এক্সারসাইজ এবং শরীর চর্চা করাঃ ফুসফুস ভালো রাখার আরেকটি কার্যকরী উপায় হল নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম বা শরীর চর্চা করা। নিয়মিত শরীর চর্চার ফলে অন্যান্য অসুখ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ফুসফুস ভালো রাখতেও শরীর চর্চা বিশেষ অবদান রাখে। ফুসফুসের রোগীদের জন্য অথবা ফুসফুস ভালো রাখতে ব্রেথ এক্সারসাইজ অত্যন্ত কার্যকর এতে দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে।

দূষিত ও ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুনঃ ফুসফুস ভালো রাখতে অবশ্যই দূষিত বায়ু পরিহার করে চলতে হবে, দূষিত বায়ু আমাদের ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর তাই ভূষিত বায়ুর স্থানে এড়িয়ে চলুন অথবা এই স্থানগুলোতে মাস্ক ব্যবহার করুন। ঠান্ডা বাতাস খেতে অনেকেই পছন্দ করেন, কিন্তুু বেশি ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর।তাই ফুসফুস ভালো রাখতে হলে ঠান্ডা বাতাস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। খুব বেশি অসুবিধা  না থাকলে মুখের বদলে নাক দিয়েই শ্বাস নিন কারন নাক দিয়ে শ্বাস নিলে বাইরের বাতাস তাড়াতাড়ি গরম হয়ে শরীরে প্রবেশ করে।

স্মোকিং বর্জন করুনঃফুসফুস ভালো রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যয় স্মোকিং বা ধুমপান ছাড়তে হবে।কারণ ফুসফুসের খারাপ হওয়ার পেছনে প্রায় ৪০-৫০% দায়ী থাকে ধূমপান।

গ্রিন টি পান করাঃ গ্রিনপির অন্যান্য উপকারিতার পাশাপাশি এটি আমাদের ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা ধূমপান পরে তাদের ফুসফুসকে ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে কাজ করে গ্রিন টি।tbsnews.net নামক ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারা যায় যে -হাজার প্রাপ্তবয়স্ক কোরিয়ান নাগরিকের ওপর একটি গবেষণার করে দ্যা জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করে তাদের তুলনায় যারা গ্রিন টি পান করে না তাদের ক্ষেত্রে ফুসফুসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তাই ফুসফুস ভালো রাখতেই নিয়মিতভাবে দিনে দুইবার গ্রিন টি পান করা উচিত।

আরো পড়ুনঃ গ্রিন টি পানের উপকারিতা

পুদিনা পাতাঃ ঔষধি গুন সম্পন্ন পুদিনা পাতার বিভিন্ন উপকারিতার কথা আমরা অনেকেই জানি। সর্দি-কাশি সারাতে পুদিনা পাতা বিশেষ অবদান রাখতে পারে। শুধু সর্দি কাশি নয় ফুসফুসের যেকোনো ধরনের সংক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সাহায্য করে পুদিনা পাতা। তাই ফুসফুস ভালো রাখতে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে হলেও পুদিনা পাতা খাওয়ার চেষ্টা করুন , এটি আপনার ফুসফুস এর পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য সমস্যার থেকেও রক্ষা করবে।

তুলসি পাতাঃ কাশি কমাতে তুলসি পাতার গুনের কথা আমরা কে না জানি।বাতাসের মধ্যে থাকে ধূলো বালি শোষণ করে নিয়ে ফুসফুসকে সুরক্ষা দিতে পারে তুলসি পাতা। আর এ কারনে রেগুলার তুলসি পাতার রস খাওয়ার অভ্যাস করেলে এটি আমাদের ফুসফুসে সুরক্ষা দিতে বিশেষ সাহায্য করবে। এছাড়াও তুলসি পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফুসফুস ভালো রাখতে এবং ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

আদাঃ শ্বসতন্ত্রের ভেতরের শাখা বর্জ্য পদার্থ দূর করে ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে আদা। আদার ভেতরে থাকা পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , বিটা ক্যারোটিন সহ বিভিন্ন উপাদান গুলো ফুসফুস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আদার ভেতরে থাকে উপাদান গুলো ক্যান্সারের সেল ড্যামেজ করতে সাহায্য করে বিধাই আদা খেলে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে।তাই প্রতিদিন এক টুকরো আদা চিবিয়ে অথবা অন্য কিছুর সাথে কিংবা আদা চা খাওয়ার চেষ্টা করুন।

রসুনঃ ফুসফুস ভালো রাখার মসলা জাতীয় দ্রব্য গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রসুন। ফুসফুস এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে সেলিনিয়াম ও অ্যালসিন উপাদান দুটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই দুইটি প্রাকৃতিক উপাদান প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও রসুনের ভেতরে এন্টিভাইরাল উপাদান থাকায় ভাইরাসজনিত ক্ষতিকর উপাদান গুলো থেকে ফুসফুস কে রক্ষা করতে সাহায্য করে রসুন।

হলুদঃ ফুসফুসের ভেতরে থাকা দূষিত বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে যথেষ্ট সাহায্য করে হলুদ এছাড়াও  হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্দি কাশি সহ ফুসফুসের যেকোন সমস্যা দূর করেতে এবং ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফুসফুসের সমস্যা দূর করতে ঘুই বা মাখনের সাথে কাঁচা হলুদের রস খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কালোজিরাঃ মহাঔষধি গুন রয়েছে কালোজিরাতে এবং মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে বলা আছে মৃত্যু ছাড়া সকল অসুখ দূর করার ক্ষমতা রাখে কালোজিরা ও মধু। আর তাই সুস্থুর ভালো রাখতে নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস করতে করুন। কালোজিরাই রয়েছে দুটি অক্সিজেন ও আন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা ফুসফুসের প্রদাহ দূর করতে এবং ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ড্রাই ফ্রুটসঃ ফুসফুস ভালো রাখতে খাদ্য তালিকায় রাখুন কাজুবাদাম , পেস্তা বাদাম , চিনা বাদাম, আখরোট জাতীয় ড্রাই ফ্রুটস গুলো। কারণ এই জাতীয় ড্রাইভ ফুড গুলো ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন ঃ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

ভিটামিন ই ও ওমেগা থ্রি যুক্ত খাবারঃ ফুসফুস ভালো রাখতে ড্রাই ফুডসের পাশাপাশি খেতে পারেন ভিটামিন ই যুক্ত এবং ওমেগা থ্রি যুক্ত খাবার গুলো। ভিটামিন ই যুক্ত খাবারের মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার বীজ এবং ওমেগা থ্রি যুক্ত খাবার সামুদ্রিক মাছ অত্যান্ত সাহায্য ফুসফুস ভালো রাখতে

ভিটামিন ডি ও সি যুক্ত খাবারঃ ফুসফুস ভালো রাখতে খেতে হবে ভিটামিন ডি এবং সি যুক্ত খাবার গুলো।ভিটামিন ডি শিশু দের শ্বাস কষ্ট দূর করতে সাহায্য করে আর অ্যান্টঅক্সিডেন্ট থাকায়ে ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্যকরে। 

আপেলঃ ফুসফুস ভালো রাখতে নিয়মিত আপেল খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ আপেলের ভেতরে থাকা ভিটামিন এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদানগুলো ফুসফুস থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দিয়ে ফুসফুস ভালো ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায়

শরীরেরে গরুত্বপূর্ণ অর্গান গুলোর মধ্যে ফসফুস অন্যতম তাই আমাদের জন্য ফুসফুসের যত্ন নেয়া যেমন জরুরি ,ফুসফুস ভালো আছে কিনা জানতে ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় জানাটাও জরুরি।ফুসফুসের সমস্যা গুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক কোন অসুবিধা হয়না তাই অধিকাংশ মানুষ সঠিক সময় চিকিৎসা শুরু করতে পারেনা আমাদের যদি ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় জানা থাকে তাহলে খুব সজজে আমরা নুঝতে পারবো ফুসফুস ভালো আছে কিনা আর সে অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহন করতে পারবো। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাকফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায় গুলো।

ফুসফুসে প্রধান কাজ হল শ্বাস প্রশ্বাস পরিচালনা করা , ফুসফুসের যদি কোনরকম সমস্যা হয় তাহলে , স্বাভাবিকভাবে আপনার শ্বাস প্রশ্বাসে অসুবিধা বা বাঁধার সৃষ্টি হবে।ঘরোয়া একটি শ্বাস প্রশ্বাসের পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি খুব সহযেই বুঝতে পারবেন আপনার ফুসফুস ভালো আছে কিনা। পরীক্ষাটি হলো- নিঃশ্বাস আটকে রাখুন কমপক্ষে ২৫ সেকেন্ড ,স্বাভাবিক ভাবে কোন অসুবিধা বোধ না করে আপনি যদি ২৫ সেকেন্ড বা তার কিছু বেশি সময় নিঃশ্বাস আটকে রাখতে পারেন তাহলে বুঝবেন আপনার ফুসফুস ভালো আছে।

আর যদি ২৫ সেকেন্ড বা তার কাছাকাছি সময়  নিঃশ্বাস আটকে রাখতে না পারেন অথবা আটকে রাখতে আপনার কষ্ট হয়,তাহলে বুঝবেন আপনার ফুসফুসে সমস্যা আছে , এ অবস্থায় ফুসফুসের পরিস্থিতি বোঝার জন্য আপনি একবার ক্লিনিক্যালি টেষ্ট করিয়ে নিতে পারেন। তবে নিঃশ্বাস আটকে রাখার এই পরীক্ষা টি কখনোই জোর করে করা উচিত নয়, কারণ এতে ফুসফুসের উপরে চাপ করতে পারে। এছাড়াও ফুসফুস ভালো না থাকলে যে ৬ টি লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন সেগুলো নিচে দেয়া হলো।তাহলে জেনে নিন ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ৬ উপায়

  1. ফুসফুসে ব্লক তৈরি হওয়া যার কারণে শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়
  2. বেশিক্ষণ নিঃশ্বাস ধরে রাখতে না পারা
  3. শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেট কমে যাওয়া
  4. বুকে ব্যথা
  5. কাশি
  6. নিউমোনিয়া

ফুসফুসের সমস্যা বোঝার উপায়

এতক্ষণ আমরা জেনেছি ফুসফুস ভালো আছে বোঝার উপায়, আর এবার আমরা আলোচনা করব ফুসফুসের সমস্যা বোঝার উপায় সম্পর্কে। ফুসফুসের সমস্যা হলে , প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু লক্ষণ দেখে আমরা ধারণা করতে পারি যে ফুসফুসের সমস্যা হয়েছে। ফুসফুসের সমস্যা বোঝার উপায় গুলো যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে অবশ্যই জেনে নিন। ফুসফুসের সামান্য সমস্যা হলেও সেটির বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন হওয়া উচিত , কারণ সচেতনতার অভাবে এই সামান্য সমস্যাটি ও একসময় বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই ফুসফুসের সমস্যা বোঝার উপায় গুলো গুলো জেনে রাখুন।

আরো পড়ুন ঃ হার্ট ভালো রাখার উপায়

শ্বাস প্রশ্বাস পরিচালনার প্রধান কাজটি করে থাকে ফুসফুস , শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কোন সমস্যা হলে বুঝতে হবে এটি ফুসফুসের সমস্যা। এছাড়াও ফুসফুসের সমস্যা হলে হাতি ঠান্ডা লাগা জড়িত সমস্যাগুলোর পাশাপাশি হাঁচি- কাশি , নিউমোনিয়া , বুকে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা বেড়ে যায়। এছাড়াও যদি অধিকাংশ সময় কোন কারণ ছাড়াই ক্লান্তি বোধ আসে তাহলে অবশ্যই না ফুসফুসের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত কারণ ফুসফুসের সমস্যা হলে শরীরে ঠিক মতন অক্সিজেন প্রবাহিত হয় না এবং যার ফলে অধিকাংশ সময়ই শরীর ক্লান্ত। ধূমপান না করার পরেও যদি আপনার বুকে ব্যথা হওয়ার সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই ফুসফুসের কথা মাথায় রাখুন , কারণ শুধু হার্টের সমস্যায় নয় ফুসফুসের সমস্যা হলেও বুকে ব্যথা হতে পারে।

ফুসফুস ভালো রাখার খাবার

আমাদের শরীর বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু , ভাইরাস - ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কিন্তু শরীর এসবের ঝুঁকিতে থাকলেও , আমরা যদি আমাদের খাদ্য তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সচেতন হয় তাহলে অনেক অংশেই এ ধরনের মারাত্মক ও জটিল রোগের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারি।ফুসফুস হলো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অর্গান গুলোর মধ্যে একটি , তাই আজকে আমরা আলোচনা করব ফুসফুস ভালো রাখার খাবার গুলো সম্পর্কে। এ সকল খাবার গুলো আমরা খাদ্য তালিকায় যুক্ত করার মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে ফুসফুস কে নিরাপদ করতে পারি। তাই চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ভালো রাখার খাবার গুলোর নাম। যেসব খাবারগুলো ফুসফুস ভালো রাখতে বা নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে সেগুলো হলো,

আরো পড়ুনঃ রসুন ও কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

  • গ্রিন টি
  • পুদিনা ও তুলসী পাতার রস
  • ভিটামিন ই , ডি ও সি যুক্ত খাবার
  • ওমেগা থ্রি যুক্ত খাবার
  • কালোজিরা
  • মধু
  • মসলা জাতীয় খাবারের মধ্যে -কাঁচা আদা , রসুন , হলুদ ইত্যাদি
  • ফল জাতীয় খাবারের মধ্যে - আপেল, আঙ্গুর , কলা পেয়ারা, আনারস , কমলা লেবু , blueberry , স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি
  • ড্রাই ফুড জাতীয় খাবার - কাজু , পেস্তা ,আখরোট ইত্যাদি
  • সবজি জাতীয় খাবারের মধ্যে -পালং শাক , মিষ্টি কুমড়া , ব্রকলি , গাজর ,বিট সবুজ ক্যাপসিকাম , টমেটো

মন্তব্য , ফুসফুসের যত্ন নেওয়ার জন্য এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানানো হয়েছে ,ফুসফুস ভালো আছে বোঝার ৬ উপায় ও ফুসফুস ভালো রাখার ১৫ উপায় সম্পর্ক। এ পদ্ধতি বা উপায়গুলো গুলো ভালোভাবে মেনে চলুন এবং যদি কখনো ফুসফুসের সমস্যা বোধ করেন তাহলে অবশ্যই  অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করুন। কারণ ফুসফুসের জটিল রোগগুলোতে সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না আর যখন লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে তখন অসুখ অনেক দূর এগিয়ে যাও। তাই শুরু থেকেই সচেতন হন এবং আপনার ফুসফুসকে ভালো রাখুন। আশা করছি ফুসফুস ভালো রাখার উপায় গুলো জানতে পেরে উপকৃত হয়েছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url