আকিকা দেওয়ার নিয়ম

আকিকা দেওয়া পিতা-মাতার উপরে অর্পিত একটি ধর্মীয় দায়িত্ব। সন্তানের কল্যাণ কামনায় আল্লাহর নামে হালাল গৃহপালিত পশু জবাই করা কে আকিকা বলে । আকিকা দেওয়ার সঠিক সময় এবং আকিকার দোয়া এবং আকিকা দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত, কারণ এটি ইবাদত এবং আকিকা করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

আসুন তাহলে এই পোষ্টের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক আকিকা দেওয়ার সঠিক সময় , আকিকা দেয়ারনিয়ম , আকিকার দোয়া এবং আকিকা সম্পর্কিত আরো বিভিন্ন তথ্য। আকিকা সম্পর্কে আপনার যদি সঠিক ধারণা না থাকে তাহলে এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি জেনে নিতে পারেন ওটা দেয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য। আকিকা সম্পর্কিত তথ্য গুলো জানতে মনোযোগ সহকারে অবশ্যই পোস্টটি করুন।

এই পোস্টে আকিকা সম্পর্কে যা যা থাকছেঃ আকিকা দেওয়ার সঠিক সময় - আকিকার দোয়া

আকিকা

আকিকা হল ইসলাম ধর্মের একটি ধর্মীয় বিধান। আকিকা আরবি শব্দ যার অর্থ হলো-ভেঙ্গে ফেলা,কেটে ফেলা ইত্যাদি। ইসলাম ধর্মে শিশুর জন্মের পর আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে চার পায়া হালাল জন্তু জবেহ করাকে আকিকা বলে। এবং এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সন্তানের আকিকা দেওয়া পিতা মাতার জন্য মুস্তাহাব। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা) বলেছেন-শিশুর জন্মের সাথে আকিকার সম্পর্ক রয়েছে, সুতরাং সন্তানের পক্ষ থেকে পিতা-মাতা পশু জবাই করবে এবং শিশুর শরীর থেকে কষ্টদায়ক চুল দূর করে দিবে।(বুখারী শরীফ, হাদিস;৫৪৭২)।

আরো পড়ুনঃ রোজা নষ্ট হওয়ার কারণ

সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে চারটি কাজ করা উত্তম। নিচে সপ্তম দিনের করনীয় এই চারটি কাজ তুলে ধরা হলো,

  • সন্তানের ইসলামিক নাম রাখা
  • মাথা মুন্ডন করা
  • অর্থাৎ চুলের ওজন পরিমাণ সোনা বা রুপা দান করা
  • আকিকা করা

আকিকা দেওয়ার সঠিক সময়

এবার আমরা জেনে নেব আকিকা দেয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে। আকিকা দেওয়ার সঠিক সময় হল সন্তান জন্মের পর ৭ , ১৪ , ২১ তম দিনে। এর মধ্যে সপ্তম দিনে আকিকা দেওয়া সবচাইতে উত্তম, জানা যায় মহানবী(সা) এর দুই দৌহিত্র হাসান এবং হুসেন এর আকিকা তাদের জন্মের সপ্তম দিনে করানো হয়েছিলো। বিভিন্ন  যদি কেউ ৭,১৪,২১ তম দিনে আকিকা করতে ব্যর্থ হয় অথবা যদি সমর্থ্য না থাকে তাহলে পরবর্তীতে যেকোনো সময় আকিকা দেয়া যাবে। এমনকি কারো পিতা-মাতা যদি আকিকা দিতে অক্ষম বা অপারগ হয় তাহলে পরবর্তীতে নিজের আকিকার নিজেও দিয়ে নেয়া যায়। হযরত আনাস (রা) এর বর্ণনা থেকে জানতে পারা যায়-নবুয়ত প্রাপ্তির পর মোহাম্মদ(সা) নিজের আকিকা নিজেই করান।

আকিকার জন্তু

এবার আমরা জেনে নেব কোন কোন জন্তু গুলোর দিয়ে আকিকা করানো যাবে অথবা আকিকা করার হালাল জন্তু কোনগুলো। আকিকার জন্তুগুলো হল উট , দুম্বা , গরু , মহিষ , ছাগল , ভেড়া। এর মধ্যে ছাগল অথবা দুম্বা দিয়ে আকিকা করা সর্বউত্তম। আবু দাউদ নামক হাদিসের গ্রন্থটি থেকে জানতে পারা যায় যে-রাসূলুল্লাহ (সা)-হাসান এর জন্য দুম্বা আকিকা করেছিলেন।আকিকার পশু হতে হবে সুস্থ এবং দোষ ত্রুটিমুক্ত। 

আকিকার গোশত কারা খেতে পারবে

আকিকার গোস্ত খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, আজকে আমরা আলোচনা করব আকিকার বস্তু কারা খেতে পারবে সে সম্পর্কে। এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক চলুন আকিকার গোশত কারা খেতে পারবে। আকিকার গোশত পিতা-মাতা, ভাই বোন আত্মীয়-স্বজন , পাড়া-প্রতিবেশী , গরিব , ফকির মিসকিন সকলে খেতে পারবে। সন্তানের আকিকার মাংস খাওয়া পিতা-মাতার জন্য সুন্নত।

আরো পড়ুনঃ যাকাত কাদের উপরে ফরজ

হযরত আয়েশা (রা) বলেন -আকিকার গোশত তোমরা নিজেরা খাবে , অন্যকে খাওয়াবে অথবা হাদিয়া দেবে এবং সদকা করবে।(মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস;৭৬৬৯)

আকিকা কারা দিতে পারবে

ইসলামে বিধান অনুযায়ী সন্তানের জন্য আকিকা করার নিয়ম পিতা-মাতা। সন্তান জন্মের পর সন্তানের পক্ষ থেকে সাদকা হিসেবে পিতা-মাতাকে আকিকা করাতে হবে। তবে কোন পিতা-মাতা যদি সন্তানের আকিকা করানোর সামর্থ্য যদি পিতা-মাতার না থাকে তবে সন্তানের দাদা দাদি অথবা নানা-নানি আকিকা দিতে পারে। দাদা দাদি , নানা নানীর পক্ষেও যদি আকিকা করানো সম্ভব না হয়, তাহলে সন্তান বড় হয়ে নিজের আকিকা নিজেও করতে পারবে।

ছেলেদের আকিকা দেওয়ার নিয়ম

আকিকা হলো পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সন্তান হওয়ার জন্য শুকরিয়া স্বরূপ। আকিকা দেওয়া একটি ইবাদত। ছেলেদের আকিকা দেওয়ার জন্য সমবয়সী দুটি ছাগল , দুটি ভেড়া , অথবা দুটি দুম্বা দেয়ার বিধান রয়েছে । তবে গরু এবং মহিষ দিয়েও ছেলেদের আকিকা দেওয়া যাবে। হযরত আয়েশা (রা) এর এক বর্ণনা থেকে জানা যায় রাসূলুল্লাহ (সা) সন্তানদের জন্য-একই বয়সী দুটি ছাগল , ভেড়া , অথবা দুম্বা কুরবানীর জন্য বলেছেন। তবে কেউ যদি গরিব হয় এবং দুইটি পশু কোরবানির দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে তাহলে ছেলেদের ক্ষেত্রেও একটি পশুর মাধ্যমে আকিকা দেওয়া যাবে।

মেয়েদের আকিকা দেওয়ার নিয়ম

উপরে আমরা ছেলেদের আকিকা দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনেছি এবার আমরা জানবো মেয়েদের আকিকা দেওয়ার বিধান সম্পর্কে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও ছাগল , ভেড়া, দুম্বা , গরু , উট, এবং মহিষ দিয়ে কোরবানি করা যাবে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে ছাগল ভেড়া দুম্বা যেকোনো একটি পশু কোরবানি করতে হয়। অর্থাৎ সামর্থ্যবান হলে ছেলেদের ক্ষেত্রে সমবয়সী দুইটি জন্তু এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে একটি জন্তু দিয়ে কোরবানি করতে হবে।

আকিকার গোশত ভাগ করার নিয়ম

এবার আমরা জেনে নেব আকিকার গোশত ভাগ করার নিয়ম সম্পর্কে। আকিকার গোশত ভাগ করার নিয়ম কুরবানীর গোশতের মতন, অর্থাৎ কোরবানির গোশত যেমন তিন ভাগ করা হয় আকিকার গোশতও একই নিয়মে তিন ভাগ করতে হয়। আকিকার গোশত একভাগ নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য রাখতে হয়, দ্বিতীয় ভাগ আত্মীয়-স্বজন , পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে বন্টন করতে হয় এবং তৃতীয়বার গরিব , ফকির-মিসকিনদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হয়।

উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে, আপনি জানতে পেরেছেন আকিকার দোয়া এবং আকিকা দেওয়ার বিভিন্ন নিয়ম কানুন সম্পর্কে। আকিকা এক ধরনের সাদকা। আকিকা করার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কাছে আপনার সন্তানের মঙ্গল এবং সকল প্রকার বালা মুসিবত থেকে সন্তানকে হেফাজত করার দোয়া করুন। সাধ্য অনুযায়ী আপনি আপনার সন্তানের আকিকা করান এবং নিজের উপরে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url